Thursday, May 19, 2022
HomeLifestyleথানকুনি পাতার বিস্ময়কর উপকারিতা!

থানকুনি পাতার বিস্ময়কর উপকারিতা!

থানকুনি পাতার উপকারিতা ও অপকারিতা:

thankuni-patar-upokarita-opokarita-in-bengali

থানকুনি পাতা আমাদের দেশের খুবই পরিচিত ভেষজ গুণসম্পন্ন উদ্ভিদ। এর ল্যাটিন নাম Centella Aciatica। গ্রামে থানকুনি পাতার ব্যবহার আদি আমল থেকেই চলে আসছে। ছোট্ট প্রায় গোলাকৃতি পাতার মধ্যে আছে ওষুধি সব গুণ। 

থানকুনি পাতার রস রোগ নিরাময়ে খুবই অতুলনীয়। প্রক্রিয়া জাতকরণের মাধ্যমে বহু রোগের উপশম হয় এর ভেষজ গুণ থেকেই। খাদ্য উপায়ে এর সরাসরি গ্রহণ রোগ নিরাময়ে থানকুনি যথাযথ ভূমিকা রাখতে সক্ষম। 

অঞ্চলভেদে থানকুনি পাতাকে আদামনি, তিতুরা, টেয়া, মানকি, থানকুনি, আদা গুনগুনি, ঢোলামানি, থুলকুড়ি, মানামানি, ধূলা বেগুন ইত্যাদি নামে ডাকা হয়। তবে বর্তমানে থানকুনি বললে প্রায় সবাই চেনে।

গবেষণায় দেখা গেছে, কেউ যদি নিয়মিত থানকুনি পাতা খাওয়া শুরু করে, তাহলে মাথার চুল থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত শরীরের প্রতিটি অংশের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি শুরু করে। সেই সাথে মেলে আরও অনেক উপকার। যেমন ধরুণ….

থানকুনি পাতার উপকারিতা:

হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটে: 


থানকুনি পাতা হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটায়। কারণ গবেষণায় দেখা গেছে, থানকুনি পাতায় উপস্থিত একাধিক উপকারী উপাদান হজমে সহায়ক অ্যাসিডের ক্ষরণ যাতে টিক মতো হয় সেদিকে খেয়াল রাখে। ফলে বদ-হজম এবং গ্যাস-অম্বলের মতো সমস্যা মাথা চাড়া দিয়ে আর উঠতে পারে না।

চুল পড়ার হার কমে: 


নানা সময়ে হওয়া বেশ গবেষণায় দেখা গেছে, সপ্তাহে ৩ বার থানকুনি পাতা খেলে স্কাল্পের ভেতরে পুষ্টির ঘাটতি দূর হয়। ফলে চুল পড়ার মাত্রা একেবারে কমতে শুরু করে। 

চুল পড়ার হার কমাতে আরেকভাবেও আপনি থানকুনি পাতাকে (tahankuni pata) কাজে লাগাতে পারেন। কীভাবে? পরিমান মতো থানকুনি পাতা নিয়ে তা থেঁতো করে নিতে হবে। তারপর তার সাথে পরিমাণ মতো তুলসি পাতা এবং আমলা মিশিয়ে একটা পেস্ট বানিয়ে নিতে হবে। 

সবশেষে, পেস্টটা চুলে লাগিয়ে নিয়ে কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে। ২০ মিনিট পরে ভালো করে ধুয়ে ফেলতে হবে চুলটা। প্রসঙ্গত, সপ্তাহে কম করেও ২ বার এইভাবে চুলের পরিচর্যা করলেই দেখবেন কেল্লা ফতে!

টক্সিক উপাদান শরীর থেকে বেরিয়ে যায়: 


নানাভাবেই সারা দিন ধরে একাধিক ক্ষতিকর টক্সিন আমাদের শরীরে রক্তে প্রবেশ করে। এই সব বিষেদের যদি সময় থাকতে থাকতে শরীর থেকে বের করে দেওয়া না যায়, তাহলে কিন্তু বেজায় আরও বিপদ! 

আর এই কাজটি করে থাকে থানকুনি পাতা। কিভাবে করে? এক্ষেত্রে নিয়মিত সকালে অল্প পরিমাণ থানকুনি পাতার রসের সাথে ১ চা চামচ মধু মিশিয়ে খেলে রক্তে উপস্থিত ক্ষতিকর উপাদানগুলি বেরিয়ে যায়। ফলে একাধিক রোগ দূরে থাকতে সম্পূর্ণ বাধ্য হয়।

আমাশয় সমস্যা দূর: 


নিয়মিত সকালে খালি পেটে নিয়ম অনুযায়ী থানকুনি পাতা (thankuni pata) খেতে হবে। এমনটা টানা ৭ দিন যদি করতে পারেন, তাহলেই কেল্লা ফতে! এই ধরণের সমস্যা কমাতে আরেক ভাবেও থানকুনি পাতাকে কাজে লাগাতে পারেন। 

প্রথমে, পরিমাণ মতো থানকুনি পাতা বেটে নিন। তারপর সেই রসের সাথে অল্প করে চিনি মেশান। এই মিশ্রনটি দু-চামচ করে, দিনে ২-৩ বার খেলেই দেখবেন কষ্ট কমে যাবে।

ক্ষতের চিকিৎসা করে: 


থানকুনি পাতা শরীরে উপস্থিত স্পেয়োনিনস এবং অন্যান্য উপকারী উপাদান এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই তো এবার থেকে কোথাও কেটে গেলে সাথে সাথে সেখানে অল্প করে থানকুনি পাতা বেঁটে লাগিয়ে দেবেন। দেখবেন নিমেষেই কষ্ট কমে যাবে।

ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়: 


থানকুনি পাতায় উপস্থিত অ্যামাইনো অ্যাসিড, বিটা-ক্যারোটিন, ফ্য়াটি অ্যাসিড এবং ফাইটো-কেমিকেল ত্বকের অন্দরে পুষ্টির ঘাটতি দূর করার পাশাপাশি বলিরেখা কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। 

ফলে স্বাভাবিক ভাবেই স্কিনের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়। সেই সাথে কম বয়সে ত্বকের বুড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও কমে।

পেটের রোগের চিকিৎসায় কাজে আসে: 


অল্প পরিমাণ আম গাছের ছালের সাথে ১ টা আনারসের পাতা, হলুদের রস এবং পরিমাণ মতো থানকুনি পাতা ভালো করে মিশিয়ে বেটে নিন। এই মিশ্রণটি নিয়মিত খেলে অল্প দিনেই যে কোনও ধরনণর পেটের অসুখ সেরে যায়। সেই সাথে ক্রিমির প্রকোপও কমে।

গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দূর হয়: 


অসময়ে খাওয়ার কারণে ফেঁসেছেন গ্যাস্ট্রিকের জালে? নো প্রবেলম! থানকুনি পাতা (thankuni pata) কিনে আনুন বাজার থেকেই। তাহলেই দেখবেন সমস্যা একেবারেই হাতের মধ্যে চলে আসবে। 

আসলে এক্ষেত্রে ঘরোয়া চিকিৎসা দারুন কাজে আসে। কি সেই চিকিৎসা? হাফ লিটার দুধে ২৫০ গ্রাম মিশ্রি এবং অল্প পরিমাণে থানকুনি পাতার রস মিশিয়ে একটা মিশ্রণ তৈরি করে ফেলুন। 

তারপর সেই মিশ্রণ থেকে অল্প অল্প করে নিয়ে প্রতিদিন সকালে খাওয়া শুরু করুন। এমনটা ১ সপ্তাহ করলেই দেখবেন উপকার মিলবে।

কাশির প্রকোপ কমে: 


২ চামচ থানকুনি পাতার রসের সাথে অল্প করে চিনি মিশিয়ে খেলে সঙ্গে সাথে কাশি কমে যায়। আর যদি ১ সপ্তাহ খেতে পারেন, তাহলে তো কথাই নেই। সেক্ষেত্রে কাশির কোনো চিহ্নই থাকবে না।

জ্বরের প্রকোপ কমে: 


সিজন চেঞ্জের সময়, যারা প্রায়শই জ্বরের ধাক্কায় কাবু হয়ে পারেন, তাদের তো থানকুনি পাতা (thankuni pata) খাওয়াই একেবারেই জরুরি! 

কারণ আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে উল্লেখ রয়েছে যে, জ্বরের সময় ১ চামচ থানকুনি এবং ১ চামচ শিউলি পাতার রস মিশিয়ে সকালে খালি পেটে খেলে অল্প সময়েই জ্বর সেরা যায়। সেই সাথে শারীরিক দুর্বলতাও কমে।

থানকুনি পাতার অপকারিতা:

থানকুনি পাতায় যতই উপকারিতা থাকুক না কেন??? কিছু কিছু ক্ষেত্রে এর কয়েকটি ক্ষতিকারক দিক দেখা গিয়েছে। তাই, থানকুনি পাতা ব্যবহার করার আগে অবশ্যই অব্যশই এই জিনিসগুলি খেয়াল রাখবেন। বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

গর্ভাবস্থা ও স্তন্যপান করার সময় 


যদিও এমনি সময় থানকুনি পাতার রস আপনি অনায়াসে পান করতে পারেন, কিন্তু গর্ভাবস্থার সময় বা স্তন্যপান করানোর সময় থানকুনি পাতা ব্যবহার একেবারেই উচিত না। এতে বিরাট ক্ষতি হতে পারে।

সার্জারি বা অপারেশনের পর


কোন রকম সার্জারি বা অপারেশনের পর থানকুনি পাতার রস বা ট্যাবলেট খেলে অতিরিক্ত নিদ্রাভাব ঘিরে ধরে আপনাকে। তাই, সার্জারির কয়েক সপ্তাহ আগে বা পরে কোনো সময়ই এটি ব্যবহার করবেন না।

লিভারের সমস্যা


আগেই বলা হয়েছে যে, কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্রমাণিত হয়েছে যে, থানকুনি পাতা লিভারের জন্যে ক্ষতিকর হতে পারে। যদিও এই ব্যাপারে এখনও অনেক গবেষণা চলছে। তাই ডাক্তারের পরামর্শ অবশ্যই নিয়ে নেবেন।

অন্যান্য এলার্জি


কিছু কিছু ব্যক্তির ক্ষেত্রে থানকুনি পাতার কারণে এলার্জিও হতে পারে। এর ফলে ত্বকে চুলকানি, লালচে ভাব, শ্বাস কষ্টের সমস্যা, ঠোঁটের ফোলাভাব, জিভ, মুখ বা গলায় সমস্যা দেখা দিতে পারে। 

তাই, আপনি যদি কোনভাবে থানকুনি পাতা (thankuni pata) ব্যবহার করলে এই সমস্ত চিহ্ন দেখতে পান, তবে এটি ব্যবহার করা বন্ধ করে দিন।

কিছু ওষুধের সাথে ব্যবহার করবেন না


আপনি যদি নিচের কোনও রকম ওষুধ প্রতিদিন ব্যবহার করে থাকেন, তাহলে থানকুনি পাতার (thankuni pata) রস ক্ষতিকারক হতেই পারে।

ঘুমের ওষুধ যেমন: এম্বিয়ান, ক্লনোপিন ইত্যাদি। লিভারের ওষুধ যেমন: টাইলেনল, এলডোমেল, কোর্দারণ, জোকোর, ডাইল্যান্টিন ইত্যাদি।

তবে যাই হোক না কেন, থানকুনি পাতা হলো একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ঔষধি গাছ, যা বহু বছর ধরে নানা রকমভাবে প্রতিদিনের জীবনে উপকারিতা প্রদান করে। তবে, যেহেতু এটি বহু ঔষধি গুণ সমৃদ্ধ। 

তাই ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে তবেই এটি ব্যবহার করা উচিত। তাহলে আজ থেকেই প্রতিদিনের জীবনে থানকুনি পাতা ব্যবহার করা শুরু করছেন তো?

আমাদের এই পোস্টটি কেমন লাগলো অবশ্যই জানান কমেন্টের মাধ্যমে। এছাড়াও যদি এই বিষয়ে আরোও কোনো মন্তব্য থাকে সেটিও জানাতে ভুলবেন না।

আরও পড়ুন। 

• দই খাওয়ার উপকারিতা

• ডাবের পানির ১০ টি উপকারিতা 

• কিসমিসের উপকারিতা ও খাওয়ার নিয়ম 

• কাজু বাদামের উপকারিতা ও খাওয়ার নিয়ম 

RELATED ARTICLES

3 COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular