Thursday, May 19, 2022
HomeLifestyleপেয়ারা পাতার অসাধারণ ১৭টি উপকারিতা!

পেয়ারা পাতার অসাধারণ ১৭টি উপকারিতা!

peyara-patar-upokarita-in-bengali

পেয়ারা পাতার খাওয়ার উপকারিতা:

সুস্থ থাকাটা সকলেরই দরকার। তবে শরীরকে সুস্থ রাখতে গেলে অনেক কিছুই নিয়ম মেনে চলতে হবে। হাতের কাছে থাকা সামান্য জিনিস দিয়ে করে ফেলতে পারেন হাজারো রকমের সমস্যার সমাধান। 

চুলের যত্ন থেকে, ডায়াবেটিস, কাশির সমস্যা, যৌন রোগ এই সমস্ত কিছুই দূর হবে একটি মাত্র উপাদানেই। এই সব কিছুর মহৌষধ হলো পেয়ারা পাতা। চলুন জেনে নেই, পেয়ারা পাতার কিছু অসাধারণ উপকারিতা সম্পর্কে।

১। ওজন কমাতে


পেয়ারা পাতা জটিল কার্ব-হাইড্রেটকে সুগারে রুপান্তরিত হতে বাধা দেয়। এ ধরণের সুগার অতিরিক্ত ক্ষুধা ও ওজন বৃদ্ধির জন্য একেবারেই দায়ী। এ কারণেই পেয়ারা পাতা ওজন কমাতে এতটাই কার্যকর।

২। পরিপাকতন্ত্রের সমস্যা দূর


পেয়ারা পাতায় ব্যাক্টেরিয়া প্রতিরোধী শক্তি থাকায়, এরা অন্ত্রকে আরও ক্ষারীয় করে, সেখানে জীবাণু বৃদ্ধি রোধ করতে পারে। এ ছাড়াও এরা পরিপাক কাজে বাধা সৃষ্টিকারী অতিরিক্ত মিউকাস ক্ষরণ রোধ করতে পারে। 

তাই, পরিপাকতন্ত্রের সমস্যা ও ডাইরিয়া প্রতিরোধে পেয়ারা পাতা খুবই উপকারী।

৩। ডায়বেটিসের প্রভাব কমাতে


পেয়ারা পাতা শরীরের ইনসুলিন এর মাত্রা বৃদ্ধি না করেই, সুগারের পরিমাণ কমিয়ে ফেলতে পারে। ফলে এটি ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।

৪। যৌন রোগে


যৌন রোগেও ভীষণ উপকারি পেয়ারা পাতা (Guava leaves)। যারা দীর্ঘদিন ধরে এই রোগে ভুগছেন, তারা একবার ট্রাই করে দেখতে পারেন।

৫। ক্যান্সারের রোগের বিরুদ্ধে সাহায্য


পেয়ারা পাতায় প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট লাইকোফেন থাকায় এটি স্তন ক্যান্সার, জরায়ু ক্যান্সার ও মুখের ক্যান্সারের বিরুদ্ধে বিশেষভাবে কার্যকরি। গবেষণায় দেখা যায় যে, জরায়ু ক্যান্সারের বৃদ্ধির জন্য দায়ী অ্যান্ড্রেজেন তৈরী রোধে পেয়ারার রস বিশেষভাবে ভূমিকা রাখে।

৬। সর্দি-কাশি নিরাময়ে


ব্রংকাইটিস এর মতো রোগ উপশমের পাশাপাশি সর্দি-কাশি নিরাময়েও পেয়ারা পাতা সহায়তা করে। গ্রীষ্ম মন্ডলীয় অঞ্চলের কাঁচা ফলে রয়েছে, প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-সি ও আয়রন, যা অতিরিক্ত মিউকাস ক্ষরণে বাধা দেয় ও জীবাণুর বংশবৃদ্ধি রোধ করে। 

এখানে মনে রাখা প্রয়োজন যে, এক্ষেত্রে কাঁচা পেয়ারা কার্যকরি হলেও পাঁকা পেয়ারা আবার উল্টো ফলাফল দিতে পারে অর্থাৎ সর্দি-কাশির প্রকোপ বাড়িয়ে তুলতে পারে।

৭। অ্যালার্জীর পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া রোধ


পেয়ারা পাতা দেহের হিস্টামিন তৈরী প্রক্রিয়া নিরাময় করে, অ্যালার্জীর পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া কমাতে পারে। এছাড়াও পোকা মাকড়ের কামড়ের কারণে ফোলা কমানোর জন্যও পেয়ারা পাতা ব্যাবহার করা যেতে পারে।

৮। মাড়ির রক্তপড়া, মুখের ঘা বা ব্যাথার উপশম


পেয়ারা পাতা কিছুক্ষণ ধরে চিবিয়ে নিন। এতে পেয়ারা পাতার রসের কল্যানে মাড়ির রক্তপড়া, মুখের ঘা ও মাড়ির ব্যাথায় কিছুটা আরাম পাওয়া যাবে।

৯। শ্বাসকষ্ট জনিত রোগে


যারা দীর্ঘদিন ধরে কাশির সমস্যায় ভুগছেন, তাদের জন্য দারুণ কার্যকরি পেয়ারা পাতা। নিজেকে সুস্থ রাখতে আজ থেকেই ট্রাই করুন এই পেয়ারা পাতা।

১০। ব্রণ কমাতে সাহায্য


পেয়ারা পাতা পিষে ব্রণের ও উপর লাগালে ব্রন কমাতে সাহায্য করবে। একই পদ্ধতিতে মুখের কালো দাগও দূর করা যায়, শুধু সাথে কিছুটা পানি মিশিয়ে নিন।

১১। অকালেই মুখে বার্ধক্যের ছাপ দুর


উপরের পদ্ধতিতে মুখে পেয়ারা পাতা বাটা লাগিয়ে কম বয়সেই মুখে থাকা বয়সের ছাপকে দূর করতে পারবেন। তাই, সুন্দর ত্বক পেতে পেয়ারা খেতে পারেন অথবা কচি পাতা বা পেয়ারা পেস্ট করে মুখে মাখতে পারেন।

১২। চুল পড়া বন্ধ করতে


গরম পানিতে পেয়ারা পাতা (Guava leaves) সেদ্ধ করে নিয়ে, তা চুলে লাগিয়ে চুল পড়া রোধ করা যায়। তবে মাথায় লাগানোর আগে পানি পুনরায় ঠান্ডা করে নিতে কখনই ভুলবেন না।

১৩। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে


পেয়ারা পাতা রক্তকে অতিরিক্ত ঘন হওয়া থেকে রোধ করে ও দেহে রক্ত চলাচল সচল রাখার মাধ্যমে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে। পেয়ারা পাতা উচ্চ ফাইবার ও হাইপো-গ্লাইসেমিয়া ধর্মী হওয়ায় এটি সহজেই উচ্চ রক্তচাপ এর বিরুদ্ধে কাজ করতে পারে।

১৪। আপনার মস্তিষ্ক সুস্থ রাখতে


পেয়ারা পাতায় প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-বি৩ ও বি৬ থাকায়, এটি মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করে। রক্ত চলাচল ও মনোযোগ বৃদ্ধিতে নিয়াসিন গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করে থাকে।

১৫। থাইরয়েডের কার্যক্রম সুস্থ ও সচল রাখে


পেয়ারা পাতায় প্রচুর পরিমাণে কপার থাকায়, এটি আমাদের থাইরয়েড সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। দেহে হরমোন এর মাত্রা নিয়ন্ত্রণ ও সকল অঙ্গের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণকারী গ্রন্থিগুলোর মধ্যে থাইরয়েড সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। 

কপার এর কাজ হলো থাইরয়েড গ্রন্থি পুরো দেহের প্রয়োজনীয় হরমোন ঠিকমতো তৈরী করছে কি-না এবং হরমোনগুলো পুরোপুরি কাজে লাগছে কি-না তা খেয়াল রাখা।

১৬। কোষ্ঠকাঠিন্য উপশমে


পেয়ারা পাতায় প্রচুর পরিমাণে ফাইবার রয়েছে। এটি দেহের রেচনকার্যে সহযোগিতা করে এবং শরীরের বর্জ্য-নিষ্কাশনের পর দেহকে পূনরায় আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে।

১৭। দৃষ্টিশক্তি উন্নতিতে


উচ্চ মাত্রায় ভিটামিন-এ সমৃদ্ধ হওয়ায়, পেয়ারা পাতা দৃষ্টিশক্তি উন্নতিতে ব্যাপকভাবে ভুমিকা রাখে। চোখের ছানি, বয়সজনিত চোখের সমস্যাসহ চোখের সামগ্রিক স্বাস্থের উন্নয়নে পেয়ারা পাতা ভালো ফলাফল দিতে পারে।

আরও পড়ুন। 

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular